নাম: সোমক ঘোষ — অধিক পরিচিত RJ Somak, Mirchi Somak ইত্যাদিতে।
পেশা: রেডিও জকী (Radio Jockey), ভয়েস-ওভার আর্টিস্ট, অভিনেতা/অ্যাঙ্কর, কনটেন্ট ক্রিয়েটর I
জন্ম তারিখ: ২৬ মার্চ ১৯৮৯
জন্মস্থান: কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
শৈশব ও শিক্ষা
সোমক ঘোষ-এর শৈশব ও পারিবারিক পটভূমির বিস্তারিত তথ্য সব জায়গায় স্পষ্ট পাওয়া যায় না। তবে নিশ্চিতভাবে জানা গেছে:
তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে উঠেছেন।
শিক্ষা বিষয়ে বিশেষভাবে জানা গেছে, তিনি IISWBM (Indian Institute of Social Welfare and Business Management), কলকাতা-তে পড়াশোনা করেছেন। এছাড়া “টেকনোলজি” বা কোনো প্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিষয়েও পড়াশোনা করেছেন বলে কিছু উৎসে উল্লেখ আছে।
ক্যারিয়ার শুরু
সোমক ঘোষ রেডিওর জগতে প্রবেশ করেন এবং ধাপে ধাপে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাইলফলকগুলো হলো:
Radio Mirchi-তে কাজ শুরু: তিনি “RJ Somak” হিসেবে কাজ শুরু করেন Mirchi কলকাতা-তে।
“OMG” নামক ওয়েব ভিডিও সিরিজ / রেডিও / ডিজিটাল প্রজেক্টের মাধ্যমে একটি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা।
ভয়েস-ওভার আর্ট ও অ্যাঙ্করিং-এ কাজ করেছেন, থিয়েটার প্র্যাকটিসও করেছেন।
সোমকের জনপ্রিয়তার কিছু মূল কারণ ও অর্জন:
রেডিওর দৃশ্যপটে তার কণ্ঠ, অনুভূতি ও ধারাবাহিকতা শ্রোতাদের সঙ্গে একটি সম্পর্ক গড়ে তোলে। তার কথার ভঙ্গি, শোনার বিষয়, প্রশ্ন-উত্তর, মজাদার গল্প-বলা ইত্যাদি ফিচার অনেকের মন জয় করেছে।
বহুমাত্রিক কাজ
শুধু রেডিও জকী নয়, ভয়েস-ওভার, ডিজিটাল কনটেন্ট, অভিনেতা ও থিয়েটার হিসেবে কাজ করছেন যেকোনো ভূমিকায়।
অনলাইন উপস্থিতি
সামাজিক মাধ্যম (Instagram, Facebook, X etc.)-এ সক্রিয়, যেখানে তিনি কাজের পিছনের বিষয়, নিজের জীবন-দিক, অনুষ্ঠান-সম্পর্কিত বিষয়, শ্রোতাদের সঙ্গে আলাপচারিতা ইত্যাদি শেয়ার করেন।
অভিনয় ও চলচ্চিত্র কাজ
“The Eken: Benaras e Bibhishika”, “Haami 2”, “Rawkto Rawhoshyo” ইত্যাদি চলচ্চিত্র প্রজেক্টে কাজ করেছেন।
সোমকের রেডিও অনুষ্ঠানের ধরন ও তার উপস্থাপনা পদ্ধতি:
OMG: এই শো বা সিরিজটি তাঁর জনপ্রিয় কাজগুলোর একটি, যেখানে ডিজিটাল ও রেডিও মিলিয়ে শ্রোতাদের সাথে নতুনভাবে যোগাযোগ করা হয়।
অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত মোলায়েম, বন্ধুসুলভ ও হালকা-ফুলকা কথোপকথন নিয়ে গড়ায়। শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য গল্প, মনের কথা, হাস্যরস ইত্যাদি উপাদান থাকে।
ভয়েস ও ভাষার ব্যবহারে খেলাধুলার ছোঁয়া ও ব্যক্তিত্বের স্বতন্ত্রতা দেখা যায়।
ব্যক্তিগত জীবন ও দর্শন
সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্টে তিনি পারিবারিক সময়, বন্ধুবান্ধব ও নিজেকে নিয়ে কথা বলেন, যা দেখায় ব্যক্তিগত দিকেও গুরুত্ব দেন।
“ভয়েস-ওভার আর্টিস্ট”, “অ্যাঙ্কর / অভিনেতা” হিসেবে যে কোনো ভূমিকায় সমানভাবে কাজ করার মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
শ্রোতাদের সঙ্গে আত্মসচেতন যোগাযোগ, তাদের অনুভূতি ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় তার কাজের মূল মোটিফ হিসেবে ধরা যেতে পারে।
চ্যালেঞ্জ ও সিদ্ধান্ত
যদিও সরাসরি সব চ্যালেঞ্জের কথা পাওয়া যায় না, তথ্যানুসন্ধান থেকে যে বিষয়গুলো মনে করা যায়:
রেডিও জকীর কাজ শুধু “মাইকনে কথা বলা” নয়, সময়, বিষয় নির্বাচন, শ্রোতার মানসিক অবস্থা ও আগ্রহ নিয়ন্ত্রণ—এসব খুব সূক্ষ্ম এবং ধারাবাহিক হওয়া প্রয়োজন।
ডিজিটাল মিডিয়া ও ইনস্ট্রাগ্রামের জন্য অতিরিক্ত খুটিনাটি পরিকল্পনা ও কাজ করতে হয়, যা রুটিন রেডিওয়ার্কের বাইরে প্রায়শই সময় সাপেক্ষ।
অভিনয় শিল্পে কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন চাহিদা ও দক্ষতা দাবি করে, রেডিওর কাজ ও অভিনয়ের কাজকে মিলিয়ে নেওয়া সবসময় সহজ নয়।
সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড
চলচ্চিত্রে বাড়তি কাজ করছেন।
২০২৫ সালের “The Eken: Benaras e Bibhishika” চলচ্চিত্রে পাওয়া গেছে তার অভিনয়।
ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়াতে আরও সক্রিয়, নতুন শো, রিলস, ভিডিও কনটেন্ট ইত্যাদিতে নজর রাখা যাচ্ছে।
প্রভাব ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা
RJ Somak-এর প্রভাব শুধু রেডিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, নতুন প্রজন্মের রেডিও জকী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস:
তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে রেডিও জকি হিসেবে শুধুমাত্র ‘নির্ধারিত সময়’ নয়, শ্রোতার সঙ্গে আন্তরিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
Fearlessly একাধিক মাধ্যম (রেডিও, সিনেমা, ওভার্টনাল ডিজিটাল মিডিয়া) ব্যবহার করছেন, যা আধুনিক মিডিয়া কাজের জন্য একটি আকর্ষণীয় মডেল।
ভবিষ্যতে আরো বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান, হয়তো নিজের সিনেমার কাজ বা ওয়েব সিরিজে বড় ভূমিকা, ভয়েস-ওভার বা নাটক ইত্যাদিতে আরও সম্ভাবনা রয়েছে।
একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা (Timeline)
অনুশীলন ও ধারাবাহিকতা
রেডিওর কাজ ধারাবাহিকভাবে করতে হয়েছে, শ্রোতা ও সময় ধরে রাখতে হয়েছে।
স্ববিরোধিতা মেনে নেওয়া
কখনও কখনও রেটিং, শ্রোতা প্রতিক্রিয়া, মিডিয়া প্রবণতা সবই ভিন্ন। তবে নিজের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে কাজ করছেন।
বহুমাত্রিক দক্ষতা
কেবল কথা বললেই হবে না, ভয়েস-ওভার-এর কণ্ঠ, অভিনয়ের সেন্স, ডিজিটাল মিডিয়ার ধরণ সব কিছুতে খাপ খাওয়াতে পারার ক্ষমতা।
বিশ্বস্ত শ্রোতা মূলক কাজ
শ্রোতাদের কথা শুনে, তাদের সাড়া দিয়ে, তাদের সঙ্গে অ-প্রচলিতভাবে যোগাযোগ গড়ে তোলা; শুধু “শো করলেই” নয়, “শ্রোতার অনুভূতির দিকে মন দেওয়া”।
সাক্ষাৎকার ও উদ্ধৃতি
নিচে কিছু ভিডিও / সাক্ষাৎকারের তুলে ধরা হল:
“কোন ক্ষোভে চাকরি ছেড়েছেন সোমক”
এই সাক্ষাৎকারে সোমক বলেছিলেন, রেডিও মিরচি ছেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ হলেও কিছু মানসিক ও সৃষ্টিশীল চাপ কাজ করেছিল। তিনি বলেছিলেন, মাঝে মাঝে কাজের পরিবেশ, সময়ের ধারা ও নতুন-আনন্দের অভাব থাকে, যা একজন ক্রিয়েটিভ মানুষকে বাঁধা দেয়।
তিনি জানিয়েছেন, চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনো রাগ-ক্ষোভে নয়, বরং নিজের ভিতর থেকে সৃষ্টির উৎস খুঁজে পেতে চাওয়ার কারণে ছিল।
এতে সে যে রূপে বলেছে, রেডিওর বাইরে জীবন কেমন ছিলো—শুরুটা কেমন হয়েছিল, ভয়, অজ্ঞতার জায়গা থেকে কিভাবে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলেছে।
কথা এসেছে তার শখ-পড়াশোনা ও বলার দক্ষতা নিয়ে; বলেছে যে শুরুতে ভয় কাজ করতো, স্টেজে দাঁড়ানো মানে কাঁপন, কিন্তু এই উত্তেজনাও একটা শক্তি হিসেবে এসেছে।
এখানে সে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, রেডিও জকীর কাজ শুধু ‘কথা বলা’ নয়, শ্রোতার মন মানসিকতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা। এক-একটা শব্দ, একটি হেসে-উত্তর কথাও গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তৃতার ধরণ, নিজের ভয়েসের প্রয়োগ, শ্রোতাকে ভাবিয়ে তোলা—এসবই তার কাজের অন্তর্গত অংশ।
রেডিওর আগে কি করতেন, কীভাবে রেডিওর রাস্তা চলে এসেছে—এসব বিষয়ে কথা বলেছে। বলেছে, নিজের কণ্ঠ ও ভাষা-ভঙ্গিমায় কি-কি অনুশীলন করতে হয়েছে, প্রথম শো কোথায় কেমন হয়েছিল।
বলেছে শ্রোতার ভয়েস শুনতে পছন্দ করেন, সেই অনুভূতি তাকে অনুপ্রাণিত করে কাজ করতে।
প্রথম স্টেজ মনমুহুর্তের কথা বলেছে: কিভাবে স্টেজ-ফিয়ার কাজ করতে শুরুতে ভয় লাগতো, কিন্তু সেই ভয়ই একটি ধন। কারণ ভয় থাকলে ভালোভাবে প্রস্তুতি করতে হয়, শ্রোতাকে পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে হয়।
“Good stress” বলতে যা বোঝায়—একটি চাপ যা মানুষকে উন্নতির দিকে ধাক্কা দেয়। এই ধরনের স্ট্রেসের মুখোমুখি হতে নিজেকে তৈরি করতে হবে বলেছে।
উপসংহার অধ্যায়
রেডিওর দুনিয়া সবসময়ই ছিল এক অদৃশ্য মঞ্চ। এখানে আলো নেই, মেকআপ নেই, মঞ্চসজ্জা নেই—শুধু এক টুকরো কণ্ঠস্বরই হয়ে ওঠে শ্রোতার কাছে ভরসা, বন্ধু, কখনও দুঃখ ভাগ করার সঙ্গী, আবার কখনও নিছক আনন্দের উৎস। এই অদৃশ্য মঞ্চের এক উজ্জ্বল তারকা হলেন RJ সোমক। তাঁর যাত্রাপথ আমাদের দেখায়, কীভাবে এক সাধারণ ছেলেও নিজের কণ্ঠস্বরকে হাতিয়ার করে মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিতে পারে।
সোমকের সাফল্যের আসল শক্তি তাঁর আন্তরিকতা। শ্রোতার সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি শুধু ‘প্রোগ্রাম চালাচ্ছেন’ না, বরং একটি সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। এই সম্পর্কই তাঁর জনপ্রিয়তার আসল ভিত্তি। তাঁর শো-তে হাস্যরস যেমন আছে, তেমনি আছে আবেগ, আবার কখনও ভরপুর এনার্জি। ঠিক এ কারণেই শ্রোতারা তাঁকে আলাদা করে মনে রাখেন।
ক্যারিয়ারের প্রতিটি মোড়ে সোমক নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন—রেডিও থেকে শুরু করে ডিজিটাল কনটেন্ট, ভয়েস-ওভার থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রে অভিনয়—সব জায়গাতেই তিনি নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। জীবনযাত্রায় চ্যালেঞ্জ এসেছে, চাকরি ছাড়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই তিনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। এভাবেই এক জন সত্যিকারের শিল্পীর পরিচয় মেলে—যিনি নিজের সীমা ভেঙে এগিয়ে যেতে জানেন।
আজকের প্রজন্মের অনেক তরুণ-তরুণী রেডিও বা মিডিয়ার জগতে আসতে চায়। তাদের জন্য সোমক ঘোষের জীবন একটি বাস্তব অনুপ্রেরণা। কারণ তিনি দেখিয়েছেন—সঠিক প্রস্তুতি, সাহস, ভালোবাসা এবং নিজের কাজের প্রতি সম্মান থাকলে কোনও স্বপ্নই অসম্ভব নয়।
সবশেষে বলা যায়, RJ সোমক শুধু একজন রেডিও জকি নন—তিনি আসলে এক অনন্য গল্পকার। তাঁর কণ্ঠস্বরের মাধুর্যে বোনা এই গল্পগুলো প্রতিদিন ছুঁয়ে যায় লক্ষ মানুষের মন। আর সেই কারণেই, সময়ের স্রোত বয়ে গেলেও, শ্রোতার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন তিনি।
“সোমকের কণ্ঠ আজও শ্রোতার হৃদয়ে অনুরণন তোলে—আর এভাবেই তিনি হয়ে উঠেছেন এক প্রজন্মের ভরসা, অনুপ্রেরণা ও আনন্দের নাম।”
Read More :
মীর আফসার আলির সম্পূর্ণ জীবনী (বাংলায়) | Mir Afser Ali Biography in Bengali
শ্মশানের ডাক – বাংলা গল্প | Horror Stories in Bengali | Bangla Bhuter Golpo

1 thought on “RJ Somak এর জীবনী(বাংলায়) | RJ Somak Biography in Bengali”